Posts

তন্ত্রধারী

#তন্ত্রধারী                          প্রথম ভাগ "অচিন্ত্যরূপচরিতে সর্বশত্রুবিনাশিনি। রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি।।" -------------------------*****------------------------- ফোনটা ইচ্ছা করেই আজকে সাইলেন্ট মোডে রেখেছিলো, তৃষা। মহালয়ার ভোর, পিতৃপক্ষের শেষ, দেবীপক্ষের শুরু। আর কিছুক্ষন পরেই, মহামায়ার আগমনী ধ্বণিতে মেতে উঠবে, গোটা বিশ্ব। গঙ্গা আর অন্যান্য নদীঘাট গুলো, মুখরিত হয়ে উঠবে, পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ। উত্তরপুরুষের হাতের জলের ছোঁয়ার আশাই, পিপাষিত না দেখা, চেনা মুখগুলো আবার ফিরে যাবে, না ফেরার দেশে। পরবর্তিতে গোটা জাতি মেতে উঠবে, উৎসবের আমেজে।                    অনেক বছর ধরেই, এই রাত্রিটা ঘুমাতে পারে না তৃষা। দীর্ঘ এতো দিনের অভ্যেস, জানে আজকেও তার হেরফের হবে না। প্রতি বছরের মতোন, আজও ভোর রাত্রিতে, বাবা ফোন করবে। করবেই করবে, নিজেকে লুকিয়ে রাখার জায়গা খুঁজে পায় না সে। বালিশে মুখ গুঁজে, কান্না গিলে নিতে নিতে আবার ফুঁপিয়ে ওঠে। গোটা রাত্রি তাদের মাস্টার বেডরুমে...

আলুর দোষ

 #আলুর দোষ  আলুর প্রতি, শুভঙ্কর বাবুর ভালোবাসা, প্রেম, প্রীতি, মোহ, মায়া আরও যতো কিছু আছে, সব মিলিয়ে আকর্ষণ প্রায় মহাকাব্যিক পর্যায়ের।  ছোটোবেলায়, স্কুলের তাড়াহুড়োয়, গরম ভাত, ঘি আর সাথে এক খাবলা আলু সিদ্ধ, সেই যে ভালোবাসার শুরু, এই সেইদিন পর্যন্ত তা ছিলো অটুট। নাহলে কেউ হায়দ্রাবাদ ভ্রমণে গিয়ে, শুধুমাত্র আলুর অভাবে, বিরিয়ানি না খেয়ে ফিরে আসে। জিজ্ঞেস করলে বলেন,"ছোঃ,ওটা আবার বিরিয়ানি হলো, ভাতে মশলা মাখিয়ে, ভাপিয়ে দিলেই কি হয়? আসল জিনিস টাই তো নেই। আসিস খেতে কোনোদিন আমাদের ওখানে। নরম, তুলতুলে, ধোঁয়া ওঠা কি জিনিস ভরা থাকে ভিতরে, দেখবি"।               এহেন, শুভঙ্কর বাবুর আলু স্পর্শ করা এখন পুরোপুরি বারণ। রক্তে শর্করা ক্রমশঃ উর্ধমুখী, বংশে বাবা, দাদার এই রোগ কোনও কালে ছিলো না, মায়ের দিকেও কেউ কোনও দিন ছিলো, বলে তাঁর মনে পড়ে না। শরীরের এই পরিবর্তনে, তিনি যে খুব একটা চিন্তিত সেটা নয়, সবচেয়ে বড় এবং অনৈতিক কথা হলো, তাঁর আলু খাওয়ার উপরে সম্পূর্ণরূপে নিষেধাজ্ঞা। এই বয়সে , শরীর একটু আধটু জবাব দেবেই, অঙ্গ প্রতঙ্গ গুলো বেসুরে বাজতেই থাকবে, তাই ব...

গোবরের ভূত দেখা

#গোবরের ভূত দেখা  মানুষের ছেলের নাম যে গোবর হতে পারে, জলপাইগুড়ি না গেলে, অনেক নতুন, নতুন পদার্থের মতোন, এটিও জানতে পেতুম না।          সময় টা দু হাজার সালের, ফেব্রুয়ারি, মার্চ মাস হবে । সবে নতুন বছরে, সিনিয়র দাদাদের অসীম ভালোবাসা থেকে একটু ধাতস্থ হয়ে, হস্টেলে সব জাঁকিয়ে বসেছি । গোটা স্কুল, ফার্স্ট কিম্বা সেকেন্ড বেঞ্চে কাটানো জীবনের বাইরে, প্রথম বারের মতোন ব্যাক উইংসের গোপনীয়তা, আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা অতল রহস্য একটু একটু করে উপভোগ করতে শুরু করেছি। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের হস্টেল এবং মেসের খাবার ও যে কতো দিলখুশ হয়, তারও নিত্যনতুন সন্ধান পাচ্ছি। মোদ্দা কথা, পড়াশোনা আর পড়াশোনা করতে বলার লোকজন কাছে পিঠে না থাকলে, জীবন যে কতো রঙিন আর আনন্দের হয়, তা বলে বোঝানোর দরকার নেই।  কোথাও কোনও চাপ নেই, আট টায় ঘুম থেকে উঠে, চা পরোটা ডাল আর এগ ভুরজি খেয়ে, সাইকেল নিয়ে কলেজ, দুপুর একটায় হস্টেলে ফিরে লাঞ্চ, তারপর উইংসে গ্যাঁজ, সেকেন্ড হাফ যেতে ইচ্ছে করলে যাও, নাহলে অন্য কেউ প্রক্সি। বিকেলে কলেজ মোড়ে মুড়ি, ঘুগনি, আলুর চপ আর চা দিয়ে আড্ডা। সন্ধ্যা রাত্রে হস্টেলে ফিরে, কমন...

একচালার ঠাকুর

#একচালার ঠাকুর  একচালার প্রতিমার কনসেপ্ট টা, আমার কোনও দিনই ভালো লাগতো না। খুব বিচ্ছিরি, কোনও গ্ল্যামার নেই, কি বিচ্ছিরি রকমের গরীব, গরীব ভাব ! দুর্গা ঠাকুর হবে বড়...বিশাল বড়...ছেলে, মেয়ে গুলো প্যান্ডেল আলো করে থাকবে, এক কোণ থেকে আরেক কোণ জুড়ে। একজনের সাথে আরেকজনের দূরত্ব হবে মিনিমাম ফুটচারেক, রঙ চঙে পোশাক, হাতের যন্ত্র, পায়ের নিচের বাহন, মুখের আদল, চুলের ছাঁট সবকিছু হবে আলাদা।  তবেই না ঠাকুর! লোকে হাঁ হয়ে দেখবে আর বলবে, "করেছে বটে এইবার প্রতিমা খানি...দেখার মতোন !"                            ছোটবেলার দুঃখের জায়গাটা আরও বাড়িয়ে দিতো, আমাদের বাড়ির ম্যারমেরে এক কাঠামোর ঠাকুর। তিনশো বছর ধরে চলে আসা, ছিরিছাঁদ ছাড়া, নন-গ্ল্যামারাস খুব বাজে এক, একচালার প্রতিমা।  বাম দিকে যার সরস্বতী, কার্তিক আর ডানদিকে লক্ষী ও গণেশ।  গায়ের রঙ, হাতের রাংতার যন্ত্র ছাড়া আর পায়ের নিচের বাহন ছাড়া, বোঝা সত্যিই মুশকিল কোনটা কে? সবকটি যেনো আইডেন্টিটিক্যাল টুইন। আর সাইজ গুলোও দেখার মতোন, ছোট্ট একটা জায়গায়, সবকটিকে একস...

শনিবারের কাহিনী

Image
pc:pngtree  শনিবারের কাহিনী                                                                                          --- প্রসূন " ঘটনাটা হয়তো, ১৯৩৮ - ৩৯ সালের হবে। বুঝলে, গল্পটা আমার দাদা-শ্বশুরের মুখে শোনা। ওহো,হো , তোমরা তো, আবার দাদা-শ্বশুর, বস্তুটি কি, ঠিক বুঝলে না?" - শিভ্যাসের গ্লাসটা তুলে যুৎকরে, সোফায় বসলেন দেবাশীষ দা। সতেরো বছরের বেশি, ওয়েস্ট কোস্ট প্রবাসী, মাইক্রোসফটে  কাজ করেন। সাগর পারের, বাঙালীদের এ এক বিচিত্র অভ্যেস, প্রতি শনিবারে, বাঙালি আড্ডায় না বসলে, নাকি কালচার টা ঠিক ঠাক  মেইনটেইন হয় না, ছেলে-মেয়ে গুলো সব বাংলা শিখতে পারে না। কত কি আছে আমাদের গর্ব করার মতো, রবীন্দ্রনাথ, শান্তিনিকেতন, দুর্গাপুজো, লিটারেচার, কার্ল মার্ক্স্, ফুটবল, গান, কবিতা, মাছ-মিষ্টি, PNPC, বাঙালি কাঁকড়া। আ...

পলাশী

Image
pc: Saatchi Art পলাশী                                                      --- প্রসূন কুমার চট্টরাজ  ভূমিকা   লেখা কি কখনো নিজের হয়? পরের জীবনের গল্পকে, নিজের লেখা বলে চালিয়ে নেওয়ার পারদর্শিতাকেও, কখনো কখনো দক্ষতা বলে ধরা হয়। অক্ষর যখন ছড়িয়ে পড়ে , ব্যাপ্তি তার সীমা ধরে না। কতদূর গিয়ে শেষ হয়, তার পরিধি কে মাপতে যায় ?                                                       পরিমাপের একক কি? ভৌতবিজ্ঞান যে একক শেখায়, তাই কি যথার্থ? সেইটাই কি পরিমাপের চূড়ান্ত মান। তাই যদি হয়, তাহলে অল্পতে খুশি থাকিনা কেনো? প্রশ্নচিহ্ন টা থেকেই যায়। উত্তরের খোঁজ, শত আলোকবর্ষ পেরিয়ে, অন্য সৌরজগতের পথে মুখ লুকায়। জীবন কত কি শেখায়। ছোটবেলায় শালগাছের জঙ্গল বুকের মধ্যে রোমান্টিকতার কত জাল বুনতো। কেন জানিনা ভালো লা...

অন্যভাবে

Image
অন্যভাবে                               ---- প্রসূন  উড়ে বেড়াই, আকাশ ঘুরে ।। অর্ধেক নয় , পুরোটা জুড়ে ।। হাত ডানাতে, দিয়ে ভর ।। ভয় লাগলে , জাপ্টে ধর ।। ভাবনা  ঘোরে, অন্য পানে ।। আমিও খেলি, তাদের সনে ।। সবাই ভাবে, ভিন্ন  আমি ।। ভিন্ন ভাবা, সবচে দামি ।। ভয়ের রাতে, সবাই ডরাই ।। কেউ দেখেনা, আমার লড়াই ।। প্রতিক্ষনে, প্রতিপদে ।। সাহস যোগায়, নিজের সাথে ।। অনেক কিছু, না থাকাটা ।। আসলে থাকা, অনেক বেশি ।। জটিল কুটিল, মনের হাসি ।। নাই বা হলো, আমি তো খুশি ।। নিজের সাথে, ভালো আমি ।। নিজের সাথেই, খেলি আমি ।। রং বেরং র, দুনিয়া টাকে ।। নিজের হাতেই, রাঙিয়ে তুলি ।। একলা নই, এই জগতে ।। লক্ষ লক্ষ, ভাবে আছি ।। অন্য ভাবে , জগৎ টাকে ।। দেখার মধ্যে, আছে খুশি ।।