একচালার ঠাকুর
#একচালার ঠাকুর
একচালার প্রতিমার কনসেপ্ট টা, আমার কোনও দিনই ভালো লাগতো না। খুব বিচ্ছিরি, কোনও গ্ল্যামার নেই, কি বিচ্ছিরি রকমের গরীব, গরীব ভাব ! দুর্গা ঠাকুর হবে বড়...বিশাল বড়...ছেলে, মেয়ে গুলো প্যান্ডেল আলো করে থাকবে, এক কোণ থেকে আরেক কোণ জুড়ে। একজনের সাথে আরেকজনের দূরত্ব হবে মিনিমাম ফুটচারেক, রঙ চঙে পোশাক, হাতের যন্ত্র, পায়ের নিচের বাহন, মুখের আদল, চুলের ছাঁট সবকিছু হবে আলাদা।
তবেই না ঠাকুর! লোকে হাঁ হয়ে দেখবে আর বলবে, "করেছে বটে এইবার প্রতিমা খানি...দেখার মতোন !"
ছোটবেলার দুঃখের জায়গাটা আরও বাড়িয়ে দিতো, আমাদের বাড়ির ম্যারমেরে এক কাঠামোর ঠাকুর। তিনশো বছর ধরে চলে আসা, ছিরিছাঁদ ছাড়া, নন-গ্ল্যামারাস খুব বাজে এক, একচালার প্রতিমা। বাম দিকে যার সরস্বতী, কার্তিক আর ডানদিকে লক্ষী ও গণেশ। গায়ের রঙ, হাতের রাংতার যন্ত্র ছাড়া আর পায়ের নিচের বাহন ছাড়া, বোঝা সত্যিই মুশকিল কোনটা কে? সবকটি যেনো আইডেন্টিটিক্যাল টুইন। আর সাইজ গুলোও দেখার মতোন, ছোট্ট একটা জায়গায়, সবকটিকে একসাথে বেঁধে রাখার, কি অসম্ভব প্রয়াস! ভীষণই গরীব, গরীব দেখতে । যদিও তখন, কোনও ক্যামেরা ফোন ছিলো না, থাকলেও, একটাও ছবি তুলতাম না। ওই ছবি, সত্যিই কাউকে কোনও দিন দেখানো যায়?
ফেলে আসা সময়ের স্রোতে, জীবনের একচালা বদলাতে থাকে। এক, থেকে দুই, বদলে হয় তিন। দুরত্ব বেড়ে দাঁড়ায়, আট হাজার মাইল। হাতের যন্ত্র হয় আরও ঝকঝকে, পায়ের নিচের বাহনও হয় সংখ্যাই বেশি। নন-গ্ল্যামারাস, একচালা, ছিঁড়ে হয় মাল্টি-চালা। চারপাশের ভিড়ের, অনেক প্রশংসার মাঝেও, আর ছুঁতে পারিনা তাদের। অঙ্ক মিলে গেলোও, হাতে শুধুই পড়ে থাকে, যন্ত্রণার যন্ত্র।
ব্যাঙের আধুলির মতোন জমানো ছুটি, তাই জিজ্ঞেস করে "বাবু, সব ভালো তো ?"
একচালা আজ বড় টানে। এখন বুঝি, সেটা কত বড় craftsmanship। একান্নবর্তী পরিবারের, কতো বড় নিদর্শন। যেখানে কতো সম্পর্ক থাকে, আগলে রাখে একে অপরকে। আপদে বিপদে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, মনোমালিন্য হয়, কিন্তু মাঝখানে সেতু বিহীন দূরত্ব হয়তো তৈরি হয় না।
ভালো থেকো একচালা, আসছে বছর আবার এসো। বচ্ছর বচ্ছর এসো।।
Comments
Post a Comment